ব্রাশবিহীন এবং ব্রাশযুক্ত মোটরের মূল উদ্দেশ্য একই, আর তা হলো তড়িৎ প্রবাহকে ঘূর্ণন গতিতে রূপান্তরিত করা।
ব্রাশড মোটর এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত আছে, অন্যদিকে ব্রাশলেস মোটরের আবির্ভাব ঘটে ১৯৬০-এর দশকে, সলিড-স্টেট ইলেকট্রনিক্সের বিকাশের ফলে যা এর নকশাকে সম্ভব করে তোলে। তবে, ১৯৮০-এর দশকের আগে বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিক্সে ব্রাশলেস মোটরের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা শুরু হয়নি। বর্তমানে, ব্রাশড এবং ব্রাশলেস উভয় প্রকার মোটরই বিশ্বব্যাপী অগণিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যান্ত্রিক তুলনা
একটি ব্রাশড মোটরএটি কমিউটেটরের সংস্পর্শে থাকা কার্বন ব্রাশ ব্যবহার করে রোটরে বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ স্থানান্তরের মাধ্যমে কাজ করে, যে রোটরে তড়িৎচুম্বক থাকে। এই ভোল্টেজ রোটরে একটি তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে, যার ফলে চৌম্বকীয় আকর্ষণের মেরুত্ব ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ার মাধ্যমে ঘূর্ণন গতি সৃষ্টি হয়।
তবে, এর গঠন সরল হলেও কিছু অসুবিধা রয়েছে:
১. সীমিত আয়ুষ্কাল: ব্রাশ এবং কমিউটেটরের ক্ষয়ক্ষতির কারণে ব্রাশড মোটরের আয়ুষ্কাল তুলনামূলকভাবে কম হয়।
২. কম দক্ষতা: ব্রাশবিহীন মোটরের তুলনায় ব্রাশযুক্ত মোটরের দক্ষতা কম। ব্রাশ এবং কমিউটেটরের কারণে শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহের অপচয় হয়, ফলে অধিক তাপ উৎপন্ন হয়।
৩. গতির সীমাবদ্ধতা: ব্রাশ এবং কমিউটেটরের ভৌত কাঠামোর কারণে, উচ্চ-গতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্রাশড মোটরের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্রাশ এবং কমিউটেটরের মধ্যেকার ঘর্ষণ ব্রাশড মোটরের সর্বোচ্চ গতিসীমাকে সীমিত করে, যা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এবং কার্যকারিতাকে সীমাবদ্ধ করে।
একটি ব্রাশবিহীন মোটর একটিবৈদ্যুতিক কম্পন মোটরযা ব্রাশ এবং কমিউটেটর ব্যবহার ছাড়াই কাজ করে। এর পরিবর্তে, এটি মোটরের ওয়াইন্ডিংয়ে সরাসরি প্রেরিত শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে ইলেকট্রনিক কন্ট্রোলার এবং সেন্সরের উপর নির্ভর করে।
ব্রাশবিহীন ডিজাইনের কয়েকটি অসুবিধা রয়েছে:
১. অধিক ব্যয়: ব্রাশবিহীন মোটরগুলো সাধারণত ব্রাশযুক্ত মোটরের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়, কারণ এগুলোর নকশা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অধিক জটিল।
২. বৈদ্যুতিক জটিলতা: ব্রাশবিহীন মোটরে জটিল বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে, যার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।
৩. কম গতিতে সীমিত টর্ক: ব্রাশযুক্ত মোটরের তুলনায় ব্রাশবিহীন মোটরের টর্ক কম গতিতে কম হতে পারে। এটি এমন কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এদের উপযোগিতাকে সীমিত করতে পারে, যেখানে কম গতিতে উচ্চ মাত্রার টর্কের প্রয়োজন হয়।
কোনটি ভালো: ব্রাশযুক্ত নাকি ব্রাশবিহীন?
ব্রাশযুক্ত এবং ব্রাশবিহীন উভয় প্রকার মোটর ডিজাইনেরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে।ব্রাশড মোটর ব্যাপক উৎপাদনের কারণে এগুলো আরও সাশ্রয়ী।
মূল্যের পাশাপাশি, ব্রাশড মোটরের নিজস্ব কিছু সুবিধাও রয়েছে যা বিবেচনা করার মতো:
১. সরলতা: ব্রাশড মোটরের নকশা সরল হওয়ায় এগুলো বোঝা এবং এর সাথে কাজ করা সহজ। এই সরলতার কারণে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এগুলো মেরামত করাও সহজ হয়।
২. সহজলভ্যতা: ব্রাশড মোটর অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং বাজারে সহজলভ্য। এর ফলে, মেরামতের জন্য এর প্রতিস্থাপন বা খুচরা যন্ত্রাংশ খুঁজে পাওয়া সাধারণত সহজতর হয়।
৩. সহজ গতি নিয়ন্ত্রণ: ব্রাশড মোটরের একটি সরল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে, যার ফলে এর গতি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভোল্টেজ সমন্বয় করে অথবা সাধারণ ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার করে মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
যেসব ক্ষেত্রে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, একটি ব্রাশবিহীন মোটর আপনার অ্যাপ্লিকেশনের জন্য এটিই উৎকৃষ্টতর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
ব্রাশলেসের সুবিধাগুলো হলো:
১. অধিক দক্ষতা: ব্রাশবিহীন মোটরে কোনো কমিউটেটর থাকে না যা ঘর্ষণ এবং শক্তি ক্ষয়ের কারণ হতে পারে, ফলে শক্তি রূপান্তর উন্নত হয় এবং তাপের অপচয় কম হয়।
২. দীর্ঘ জীবনকাল: যেহেতু ব্রাশলেস মোটরে কোনো ব্রাশ থাকে না যা সময়ের সাথে সাথে ক্ষয় হয়ে যায়, তাই এর স্থায়িত্ব ও দীর্ঘায়ু বৃদ্ধি পায়।
৩. উচ্চতর শক্তি-ওজন অনুপাত: ব্রাশলেস মোটরের শক্তি-ওজন অনুপাত বেশি থাকে। এর মানে হলো, এগুলো নিজেদের আকার ও ওজনের তুলনায় বেশি শক্তি সরবরাহ করতে পারে।
৪. কম শব্দে কার্যকারিতা: ব্রাশবিহীন মোটর তেমন বৈদ্যুতিক শব্দ এবং যান্ত্রিক কম্পন তৈরি করে না। এই কারণে এগুলো এমন সব ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত যেখানে কম শব্দের প্রয়োজন হয়, যেমন চিকিৎসা সরঞ্জাম বা রেকর্ডিং ডিভাইস।
আপনার নেতা বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করুন
আমরা আপনাকে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো এড়াতে সাহায্য করি, যাতে আপনার প্রয়োজনীয় গুণমান ও মূল্য সময়মতো এবং বাজেটের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়।
পোস্ট করার সময়: ২১-সেপ্টেম্বর-২০২৩


